HSC Assignment 2021 Logic Answer for 2022 HSC Exam (1st Week)

hsc assignment 2021 Logic : আজ তোমাদের সাথে এইচএসসি 2022 সালের পরীক্ষার্থীদের 2021 সালের যুক্তিবিদ্যা অ্যাসাইনমেন্ট সম্পর্কে আলোচনা করব। মূলত আজকে আমরা তোমাদের hsc assignment 2021 Logic Answer দিব। তোমরা আমাদের এই ওয়েবসাইটে পরবর্তী hsc assignment 2021 এর উত্তর পাবে।

যুক্তিবিদ্যার (logic)উৎপত্তি বিকাশ এর ইতিহাস:

অনুমান ও সিদ্ধান্ত গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। সিদ্ধান্ত গঠনের বিষয়টি প্রথম সূত্রপাত হয় জ্যামিতিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে, ভূমি পরিমাপের মাধ্যমে। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা বিকাশের শুরুর দিকেই অভিজ্ঞতামূলক ভাবে জ্যামিতিক সূত্র আবিষ্কৃত হয়। মিশরীয়রা এ সূত্রগুলোকে ভূমি পরিমাপের ক্ষেত্রে যেমন ব্যবহার করেছেন, তেমনি সুউচ্চ পিরামিড নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেছেন। খৃস্টপূর্ব ১১ শতকে ব্যবিলনীয় সভ্যতায় যুক্তিবিদ্যায় সূত্র ও প্রমাণের ব্যবহার দেখা যায়। খৃস্টপূর্ব ৮ম ও ৭ম শতাব্দীতে ব্যবিলনীয় জ্যোতির্বিদরা গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য এক ধরনের যুক্তিবিদ্যক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন যা বিজ্ঞান ও দর্শনের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

চীনে প্রায় ১০০০ খৃষ্টপূর্বাব্দে যুক্তিবিদ্যা চর্চার প্রমাণ পাওয়া যায়। কনফুসিয়াসের সমসাময়িক মোহিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা মোজি, যিনি মাষ্টার মোহ নামে পরিচিত, তাঁর আইন সম্পর্কিত গ্রন্থে বৈধ অনুমান ও সিদ্ধান্ত প্রতিপাদনের শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়াও মোহবাদী সম্প্রদায়ের বাইরে যুক্তিবাদী পন্ডিতদের একটি দল আকারগত যুক্তিবিদ্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

যুক্তিবিদ্যার বিবর্তন অর্থাৎ উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশকে মূলত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ এবং সাম্প্রতিক যুগ। প্রাচীন যুগে যুক্তিবিদ্যার বিকাশে পিথাগোরাস সক্রেটিস, অ্যারিস্টোটল সহ নানা যুক্তিবিদগন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। মধ্যযুগীয় যুক্তিবিদ্যা বলতে প্রধানত স্কলাস্টিক যুক্তি তত্ত্বকে বোঝায়। দার্শনিক পরফিরিও মধ্যযুগের যুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছেন। মধ্যযুগের মুসলিম দার্শনিক ও যুক্তিবিদগন হলেন আল ফারাবি, ইবনে সিনা, ইবনে রুশদ সহ নানা যুক্তিবিদগন।

আধুনিক যুগের প্রধান প্রধান যুক্তিবিদগন হলেন হেগেল, লাইবনিজ সহ প্রমুখ। লাইবনিজ এর সময় থেকেই যুক্তিবিদ্যা আধুনিক রূপ লাভ করতে শুরু করে। তার যুক্তির মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যা একটি নির্দিষ্ট রূপ লাভ করে। সাম্প্রতিক যুগের প্রধান প্রধান যুক্তিবিজ্ঞান হলেন জে.এস.মিল, জর্জ  বুল, এস জেভন্স, রাসেল প্রমুখ।

যুক্তিবিদ্যা প্রায় আড়াই হাজার বছর পরিবর্তন এবং বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তিবিদ্যার পরিধিতে নানারকম সংযোজন এবং বিয়োজন ঘটেছে। সর্বশেষ এসে প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার উদ্ভব হয়েছে। সুতরাং যুক্তিবিদ্যার উদ্ভব ও বিকাশের পেছনে রয়েছে গৌরবান্বিত ঐতিহ্য। দীর্ঘ ইতিহাস পার হয়ে যুক্তিবিদ্যা বর্তমান রূপ লাভ করেছে।

hsc assignment 2021 যুক্তিবিদ্যা ভিডিও আকারে দেখে নাও:

hsc assignment 2021

যুক্তিবিদ্যার ধারণা:

যুক্তিবিদ্যার(logic) ইংরেজি প্রতিশব্দ logic. Logic গ্রিক শব্দ থেকে Logike এসেছে। Logike শব্দটি গ্রীক Logos শব্দের বিশেষণ। Logos শব্দের অর্থ চিন্তা বা শব্দ বা ভাষা। অর্থাৎ শব্দগত অর্থে যুক্তিবিদ্যা হল ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা বা চিন্তা করা যায় এমন বিজ্ঞান।

অর্থাৎ যে বিদ্যা বৈধ যুক্তি থাকে অবৈধ যুক্তি কে পৃথক করার পদ্ধতি ও বিষয় সমূহ নিয়ে আলোচনা করে, তাকে যুক্তিবিদ্যা বলা হয়।

যুক্তিবিদ এল.এস. স্টেবিং বলেন, “সর্বাধিক প্রচলিত ও প্রশস্ততম অর্থে যুক্তিবিদ্যা অনুধ্যানমূলক চিন্তার সাথে সম্পর্কিত।”

যুক্তিবিদ মুসলিম দার্শনিক আল-ফারাবী যুক্তিবিদ্যার সংজ্ঞায় বলেন, “সত্য থেকে মিথ্যা পার্থক্যকরণের উপকরণ হলো যুক্তিবিদ্যা।”

কপির যুক্তিবিদ্যার ধারণা:

কপি I. M. Copi-র Introduction to Logic গ্রন্থে যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কে যে ধারণা দেন তা আলোচনা করা হলো:

তিনি বলেন, যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে বৈধ যুক্তি থেকে অবৈধ যুক্তির পার্থক্য নির্দেশ করার জন্য নীতিসমূহের বিদ্যা (The study of logic is the study of the systems and principles used in distinctive correct from incorrect argument.)

যুক্তিবিদ্যাকে এখানে একটি শাস্ত্র বলা হয়েছে, যেখানে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতি রয়েছে। প্রতিটি বিজ্ঞানেরই নির্দিষ্ট নিয়ম-পদ্ধতি থাকে। যুক্তিবিদ্যারও সে ধরনের সুনির্দিষ্ট নীতি রয়েছে।এই নীতিগুলো যদি চর্চা করা হয়, তাহলে বৈধ ও অবৈধ যুক্তির মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভবপর হবে। এখানে যুক্তিবিদ্যার ব্যবহারিক দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। যুক্তিবিদ্যার নীতি অনুসরণ করলে সঠিক যুক্তি প্রয়োগে কথা বলতে ও প্রয়োগ করা যায় এবং ভুল যুক্তি চিহ্নিত করে তা বর্জন করা সম্ভব হয়।

এভাবে যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কে কপির আলোচনা থেকে একটি স্পষ্ট ধারণা অর্জন করা যায়।

এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যার(logic) ধারণা:

এরিস্টটল তাঁর মেটাফিজিক্স গ্রন্থে জ্ঞানের সকল শাখাকে তিন ভাগে ভাগ করেন; যথা : (ক) তাত্তিক জ্ঞান- গণিত,

প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত, (খ) ব্যবহারিক জ্ঞান- নীতিবিজ্ঞান ও রাজনীতিবিজ্ঞান এবং (গ) সৃজনমূলক জ্ঞান – শিল্পকলা ও অলংকারশাস্ত্র। তাহলে, স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে এ জ্ঞানশাখাগুলোর মধ্যে যুক্তিবিদ্যার স্থান কোথায়? এরিস্টটল জ্ঞানশাখা হিসেবে যুক্তিবিদ্যাকে কোনো শ্রেণিতেই অর্ন্তভূক্ত করতে চাননি। কারণ, যুক্তিবিদ্যাকে তিনি কোনো সীমিত জ্ঞান মনে করেননি। তাঁর মতে, যুক্তিবিদ্যা হলো একটি একটি কৌশল চিন্তার একটি সঙ্গতিপূর্ণ প্রণালী, কতগুলো নীতি ও সূত্রের সমন্বিত রূপ যাকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় যথাযথ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, যুক্তিবিদ্যা হলো একটি উপকরণ বা কৌশল যাকে যে কোনো জ্ঞানের জন্য ব্যবহার করা যায়। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক যুক্তিবাক্য থেকে সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা যায় সে প্রক্রিয়ার আলোচনাই হলো যুক্তিবিদ্যা। তিনি মনে করেন যে, নিরপেক্ষ যুক্তিবাক্যই হলো সবচেয়ে মৌলিক। তিনি নিরপেক্ষ যুক্তিবাক্যেকে গুণ ও পরিমাণ অনুসারে চার ভাগে ভাগ করেন। তিনি যুক্তিবাক্যের

বিরোধিতার চর্তুবর্গ প্রতিষ্ঠা করেন। এ চতুর্বর্গের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, এক ধরনের যুক্তিবাক্য অন্য ধরনের যুক্তিবাক্যের সত্যতা ও মিথ্যাত্ব নির্ধারণ করতে পারে।

এভাবে যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কে এরিস্টটল এর আলোচনা থেকে একটি স্পষ্ট ধারণা অর্জন করা যায়।

আল-ফারাবীর যুক্তিবিদ্যার(logic)  ধারণা:

ফারাবী মনে করেন যে, যুক্তিবিদ্যা হলো দার্শনিক আলোচনার যথার্থতা নিরূপণের উপকরণ স্বরূপ। যখন কোনো আলোচনার ক্ষেত্রে সমস্যার উদ্ভব হয় বা কোনো বিষয়কে সঠিক বলে উপস্থাপন করতে হয় তখন যুক্তিবিদ্যা মানদন্ড হিসেবে কাজ করে। তাঁর মতে, যুক্তি হলো সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকরণের কৌশল ও উপকরণস্বরূপ। যুক্তিবিদ্যা চিন্তার সামঞ্জস্যতার বিজ্ঞান ও পদ্ধতিগত বিজ্ঞান হিসেবে সত্য অনুসন্ধানের চেষ্টা করে।

আল-ফারাবীর যুক্তিবিদ্যার প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো হলো প্রত্যয়, অবধারণ ও যুক্তি। ফারাবীর মতে, প্রত্যয় হলো একটি ধারণা যা একটি বস্তুর উপাদানগত সারবত্তা ও আবশ্যিক বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। এটিই হলো অনুমানের মৌলিক বিষয়। অবধারণ হলো একটি বিশেষ সত্তার সাথে একটি সার্বিক ধারণার সমন্বয়। ফারাবী মনে করেন যে যুক্তিবিদ্যা আমাদেরকে সত্যতা ও ভ্রান্তির মধ্যে পার্থক্য করতে, আমাদের চিন্তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং অন্যকে সে পথে পরিচালিত হতে সাহায্য করে। আমাদের চিন্তা কোথা থেকে শুরু করতে হবে এবং কিভাবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় তা নির্ধারণ করে যুক্তিবিদ্যা।

জে. এস. মিলের যুক্তিবিদ্যার ধারণা:

মিল তাঁর গ্রন্থে যুক্তিবিদ্যার সংজ্ঞায় বলেন, যুক্তিবিদ্যা হলো আমাদের জ্ঞানগত প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য এমন বিজ্ঞান যা বিচার বা প্রমাণের মাধমে জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে উপণীত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বুদ্ধিগত কাজ ও বৌদ্ধিক ক্রিয়ার মানসিক প্রক্রিয়াসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করে।

মিল কেবল যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ধারণের চেষ্টা করেননি, তিনি যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। মিল বলেন, অনেক যুক্তিবিদ অবরোহ অনুমানকে মৌলিক প্রক্রিয়া বলে মনে করেন; কিন্তু অবরোহ আমাদেরকে নতুন জ্ঞানের সন্ধান দিতে পারে না। তিনি আরোহকে যুক্তিবিদ্যার মৌলিক প্রক্রিয়া বলে মনে করেন।

যুক্তিবিদ্যার(logic) স্বরূপ বিশ্লেষণ:

যুক্তিবিদ্যা আমাদেরকে যেমন যুক্তি ব্যবহারের কিছু নিয়ম-কানুন শিক্ষা দেয়, তেমনি সেগুলো প্রয়োগের পদ্ধতিও শেখায়। তাই যুক্তিবিদ্যা যেমন বিজ্ঞান, তেমনি কলাবিদ্যা। বিজ্ঞান হলো কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে প্রকৃতির কোনো একটি বিষয়কে পদ্ধতিগতভাবে জানা। জ্ঞান অর্জনই হলো বিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য। কলাবিদ্যা হলো কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমাদের অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তবক্ষেত্রে কাজে লাগানো। কলার কাজ হলো কাজে দক্ষতা অর্জন করা।যুক্তিবিদ্যা একটি জ্ঞানশাখা হিসেবে আমাদেরকে তাত্তি¡ক জ্ঞান দেয় এবং এ জ্ঞানের চর্চার মাধ্যমে আমরা বিশেষ দক্ষতা অর্জন করি। তাই, যুক্তিবিদ্যা বিজ্ঞান ও কলা উভয়ই।

যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ ও প্রকৃতি আলোচনা করতে গিয়ে দেখা যায় যে, যুক্তিবিদ্যা যেমন বিজ্ঞানের কিছু বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, তেমনি কলাবিদ্যার মতো এর রয়েছে কিছু ব্যবহারিক তাৎপর্য।

বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিবিদ্যা (logic):

যুক্তিবিদ হ্যামিলটন, ম্যানসেল, থমসন, উইভারওয়েগ প্রমুখ মনে করেন যে যুক্তিবিদ্যা হলো একটি বিজ্ঞান। কারণ যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ বিশ্লেষণ করলে আকারগত বিজ্ঞান ও আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞানের সাথে এর সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়। সমকালীন প্রতীকী যুক্তিবিদগণ যুক্তিবিদ্যাকে একটি আকারগত বিজ্ঞান বলেই আখ্যায়িত করেন।

কলাবিদ্যা হিসেবে যুক্তিবিদ্যা(logic)  :

যুক্তিবিদ অলড্রিচ মনে করেন যে, যুক্তিবিদ্যা কেবল কলাবিদ্যা। কলাবিদ্যা হিসেবেযুক্তিবিদ্যার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য নিম্নে তুলে ধরা হলো :

১. যুক্তিবিদ্যা তার নিজস্ব বিষয়বস্তু সম্পর্কে অত্যন্ত যত্নশীল এবং সঠিক চিন্তনের দাবী রাখে এবং অন্য বিষয় পাঠে অনুরূপ যত্নশীলতার অভ্যাস গড়ে তুলতে আমাদেরকে সহায়তা করে।

২. যুক্তিবিদ্যা বৈধ যুক্তির সাধারণ নিয়মাবলি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানদান করে এবং এর ফলে আমরা নিজের ও অন্যের যুক্তির যথার্থতা পরীক্ষা করে দেখতে পারি। যুক্তি প্রদান ও যুক্তি বিচার করার ক্ষেত্রে আমাদেরকে নিয়মগুলো ব্যবহার করতে হয়।

যুক্তিবিদ্যার ব্যবহারিক মূল্যের কারণেই যুক্তিবিদ্যাকে কলাবিদ্যা বলে অভিহিত করা হয়।

যুক্তিবিদ্যা(logic) বিজ্ঞান ও কলাবিদ্যা উভয়ই:

যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান। কারণ এটি নির্ভুল চিন্তার নিয়মাবলি নির্দেশ করে এবং শুদ্ধ চিন্তা কাকে বলে সেটি শিক্ষা দেয়। আর সেই সাথে এটি একটি কলাবিদ্যাও। কারণ যুক্তিবিদ্যা শুধুমাত্র চিন্তা বা যুক্তির সাধারণ নিয়মাবলি নির্দেশ করেই ক্ষান্ত হয় না, সাথে সাথে চিন্তা বা যুক্তিকে সঠিকভাবে প্রয়োগের কলা-কৌশলও দান করে। তাই যুক্তিবিদ্যায় যেমন রয়েছে তাত্তি¡ক দিক, তেমনি রয়েছে এর ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক দিক। অতএব, যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান ও কলা উভয় হিসেবে গণ্য করা যায়।

যুক্তিবিদ্যাকে কলাবিদ্যা বলতে হলে প্রথমেই একে বিজ্ঞান বলে স্বীকার করে নিতে হবে। এ প্রসঙ্গে যোসেফ বলেন, এটা পরিষ্কার যে যুক্তিবিদ্যা যদি কলাবিদ্যা হয় তাহলে প্রথমেই এটাকে বিজ্ঞান হতে হবে।মিল, হোয়েটলি প্রমুখ যুক্তিবিদ মনে করেন যে, যুক্তিবিদ্যা হলো বিজ্ঞান ও কলাবিদ্যার সমন্বিত রূপ। যুক্তিবিদ্যা আমাদের চিন্তা সম্পর্কিত কতগুলো সাধারণ নিয়ম শিক্ষা দেয় এবং বাস্তব ক্ষেত্রে সেসব নিয়ম যথার্থভাবে প্রয়োগে যাতে সত্যতা লাভ করা যায় সে বিষয়েও নির্দেশ প্রদান করে।

যুক্তিবিদ্যা আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান:

যুক্তিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। যে বিজ্ঞান কোন বিশেষ আদর্শের আলোকে তার বিষয়বস্তু আলোচনা ও মূল্যায়ন করতে পারে, তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়। যেমন, নীতিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। এ দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বলতে পারি যুক্তিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। যুক্তিবিদ্যার মূল আদর্শ হলো সত্যতা। সত্যতার আদর্শের ভিত্তিতে বাস্তব জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে অসত্যকে বর্জন করার দিকনির্দেশনা প্রদান করে যুক্তিবিদ্যা। কিভাবে আমরা চিন্তা করলে সত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারব বা আমাদের কিভাবে চিন্তা করা উচিৎ, তাই যুক্তিবিদ্যার আদর্শ। যুক্তিবিদ্যা সত্যতাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে, যথার্থ চিন্তার গতিপথ নির্ধারণ করে। আর এ সত্যের আদর্শকে সামনে রেখে যুক্তির বৈধতা এবং অবৈধতা বিচার করে বলে, যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।

যুক্তিবিদ্যার পরিসর এবং বিষয়বস্তু:

জ্ঞান প্রধানত দুই ধরনের। যথা- প্রত্যক্ষ জ্ঞান এবং পরোক্ষ জ্ঞান। যেহেতু যুক্তিবিদ্যা অনুমান লব্ধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, সেহেতু যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় পরোক্ষ জ্ঞান। জানা বিষয় এর মাধ্যমে অজানা বিষয়কে জানাই হচ্ছে অনুমান। অনুমান হচ্ছে জ্ঞানের উৎস।

অনুমান আবার দুই ধরনের। যথা- যথার্থ ও অযথার্থ অনুমান। যথার্থ অনুমান ই যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়। সার্বিক ধারণা, গঠন এবং অবধারণ ইত্যাদি মানসিক প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তিবিদ্যা আলোচনা করে থাকে। যুক্তিবিদ্যার অন্যতম লক্ষ্য হলো সত্যের সন্ধান এবং সত্য প্রতিষ্ঠা করা। যুক্তিবিদ্যা সত্যতা নিয়ে আলোচনা করে থাকে। যুক্তিবিদ্যার কিছু মৌলিক নিয়ম রয়েছে। যেমন অভেদ নিয়ম, বিরোধ নিয়ম, প্রকৃতির নিয়ম, কার্যকারণ নীতি ইত্যাদি। এ নিয়মগুলো যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

যুক্তিবিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়বস্তু হলো চিন্তা । চিন্তার আধার হলো কোন-না কোন বিষয় বা বস্তু। যুক্তিবিদ যোসেফ বলেন, চিন্তার বিষয়কে অবয়ব বা আকার থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। বরং চিন্তার অবয়ব বা আকার ও বিষয়বস্তু পরস্পর সম্পর্কিত। তাই যুক্তিবিদ্যা কেবল চিন্তার আকার নয়, বরং চিন্তার বিষয়বস্তু সম্পর্কেও আলোচনা করে।

বিজ্ঞান, কলা, দর্ষণসহ যুক্তিবিদ্যার সাথে কমবেশি অনেক বিষয়ে প্রাথমিক কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। তাই বলা যায় প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে সূত্রপাত ঘটা যুক্তিবিদ্যার পরিসর অনেক বিস্তৃত।

আশা করি উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তোমরা hsc assignment 2021 Logic Answer বুঝতে পেরেছ। পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্ট গুলো পেতে আমাদের ওয়েবসাইট তোমাদের ডেস্কটপ বা মোবাইলের বুকমার্ক করে রাখো। তাহলে খুব সহজে আমাদের ওয়েবসাইট পাবে এবং সকল বিষয়ের এইচএসসি এসাইনমেন্ট ২০২২ পাবে।

 আমাদের পরবর্তী hsc assignment 2021 Answer পেতে ভিজিট করুন এখানে

উত্তরগুলো তোমাদের পাঠ্য বই থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা মূলত পাঠ্যবই থেকে মূল টপিকগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি। সুতরাং লেখাটি এইচএসসি  পাঠ্যবই থেকে নেওয়া হয়েছে।

6 thoughts on “HSC Assignment 2021 Logic Answer for 2022 HSC Exam (1st Week)”

  1. ভাই, আমি তো একটা A4 কাগজের দুই পেজেই লিখে ফেলছি। আর অনেকেই দেখেছি এভাবেই করেছে।
    এখন কি করবো?

    Reply

Leave a Comment