ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়? ফেসবুকে টাকা আয় করার 16 টি উপায়

ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়: এ সম্পর্কে জানার আগে চলুন আমরা জেনে নিই ফেসবুক সম্পর্কে কিছু তথ্য। ফেসবুক সংক্ষেপে ফেবু নামেও পরিচিত, বিশ্ব যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। মার্ক জাকারবার্গ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় পড়ালেখাকালীন সময়ে ফেইসবুক প্রতিষ্ঠা করেন। ফেসবুক নিজে আয় করে থাকে বিজ্ঞাপন থেকে এবং আমরা যারা ফেসবুকের মাধ্যমে টাকা আয় করতে চাই, আমাদেরও বিজ্ঞাপন থেকে আয় করতে হয়।

তবে আমরা আরো কিছু ভিন্ন উপায়ে ফেসবুকের মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারি। সে সম্পর্কে আজ আপনাদের বিস্তারিত বলবো। আপনারা অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়? অনেকেই বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখে হতাশ হন। ভালো ভালো উত্তর পান না। তাদের জন্য আজকে আপনাদের যত প্রশ্ন আছে সকল প্রশ্নের আলোকে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাই ধৈর্য সহকারে ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় লেখাটি পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

বর্তমানে সেই সকল অনলাইন মাধ্যম গুলো পৃথিবীতে টিকে আছে যারা তাদের গ্রাহকদের যথাযথ সুযোগ দিচ্ছে। যেমন ইউটিউব এ আপনি টাকা ইনকাম করতে পারেন। তেমনি ব্লগিং করে টাকা আয় করতে পারেন। তাহলে আমরা কেন ফেসবুক ইউজ করি! ফেসবুকের মত টেলিগ্রাম রয়েছে। কেন আমরা টেলিগ্রাম কিংবা অন্য কোন সোশ্যাল মাধ্যম থেকে ফেসবুক বেশি ব্যবহার করি? অবশ্যই ফেইসবুক আমাদের কিছু সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। ফেসবুক বর্তমানে পেমেন্ট অপশন চালু করেছে। যার মাধ্যমে আমি কিংবা আপনি খুব সহজে ফেসবুকে টাকা আয় করতে পারি।

ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

ফেসবুকে টাকা আয় করার উপায় হিসেবে 16 টি উপায় আপনাদের সামনে তুলে ধরছি:

  1. ফেসবুক পেজ তৈরি করে আয়
  2. ফেসবুক এডস এর মাধ্যমে আয়
  3. ফেসবুক ভিডিও তৈরি করে আয়
  4. ফেসবুক মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে টাকা আয়
  5. লাইক শেয়ার করে টাকা আয়
  6. ফেসবুক ফ্যান পেইজ বিক্রয় করে আয়
  7. বিভিন্ন প্রোডাক্ট কেনার মাধ্যমে ফেসবুকে টাকা আয়
  8. ফেসবুকে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে টাকা আয়
  9. বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ থেকে টাকা আয়
  10. বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে ফেসবুকে আয়
  11. ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল থেকে ফেসবুকে টাকা আয়
  12. ফেসবুক অ্যাপ থেকে আয়
  13. বিভিন্ন কোর্স বিক্রির মাধ্যমে ফেসবুকে আয়
  14. বিভিন্ন অনলাইন প্রতিযোগিতা
  15. ফেসবুক মারকেটপ্লেস থেকে টাকা আয়
  16. ফেসবুকে টিউশন খোঁজা

তাহলে একটু চিন্তা করুন কতগুলো উপায়ে আমরা ফেসবুক থেকে টাকা আয় করতে পারি। কিন্তু আমরা তা না করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ফেসবুকে অপচয় করি। তাহলে আজ থেকে অবশ্যই আপনি সময়কে অপচয় করবেন না।

উপরের পয়েন্টগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা যাক:

কিভাবে ফেসবুক পেজ থেকে টাকা আয় করা যায়?

ফেসবুক পেইজ হচ্ছে এমন এক ধরনের পেইজ যেখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের লেখালেখি কিংবা ভিডিও দিবেন এবং আপনার ফলোয়ার সেগুলো দেখবে। এখন প্রশ্ন হতে পারে কেন ভিজিটর আমার পেইজ ফলো করবে? কারণ হচ্ছে আপনি এমন কিছু তথ্য দিবেন যা তাদের প্রয়োজন। তাহলে প্রথমে আপনাকে একটি টপিক সিলেক্ট করা লাগবে। যা নিয়ে আপনি লেখালেখি কিংবা ভিডিও আপনার পেইজে দিবেন। এরপর আপনি আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা সকলকে ইনভাইট করবেন, আপনার ফেসবুক পেইজে লাইক দেওয়ার জন্য। যদি কোনভাবে আপনার ফেসবুক পেজে 10000 লাইক পড়ে যায়, তাহলে আপনার ফেসবুক পেজ থেকে টাকা আয় এর পথ সুগম হবে।

তাছাড়া যখন আপনার ফেসবুক পেজে ফলোয়ার সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে, তখন আপনি বিভিন্ন ভাবে ফেসবুক পেজ থেকে আয় করতে পারবেন। যেমন ডিজিটাল মার্কেটিং, ফেসবুক পেজ বিক্রি, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ইত্যাদি।

এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে কিভাবে ফেসবুক পেজে ফলোয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করব?

১. ভালো একটি বিষয় নির্ধারণ করুন:

আপনার এমন একটি বিষয় নির্ধারণ করতে হবে যা নিয়ে আপনি কাজ করতে পারবেন অর্থাৎ আপনি পারদর্শী। এবং এক্ষেত্রে আপনাকে অন্যান্য মানুষের আগ্রহের চাহিদা বুঝতে হবে। তারা কি চাচ্ছে? সেই বিষয়ে আপনাকে লেখালেখি করতে হবে। তাহলে দেখবেন আপনি কোন কষ্ট ছাড়াই অনেক ফলোয়ার পেয়ে যাবেন। সুতরাং প্রথম কাজ হচ্ছে ফেসবুক পেইজের জন্য ভালো একটি বিষয় নির্ধারণ করা।

২. বিভিন্ন গ্রুপে জয়েন হোন:

আপনি বিভিন্ন গ্রুপে জয়েন হবেন এবং সেখানে লেখালেখি করবেন। যদি ওই গ্রুপের ফলোয়াররা আপনার লেখা পছন্দ করে, তাহলে আপনার পেইজে তারা ভিজিট করবে। এক্ষেত্রে আপনার লেখার শেষে আপনার পেইজ লিংক অথবা পেজ নাম দিয়ে দিবেন। যেন ভিজিটররা সহজেই সেখানে যেতে পারে। এখন তারা যখন যাবে আপনার ফেসবুক পেইজে, তখন তারা দেখবে আপনার ফেসবুক পেইজে কি রয়েছে? তারা যদি বুঝতে পারে, এখানে তথ্যবহুল অনেক কিছু আছে, তাহলে তারা আপনার ফেসবুক পেইজ ফলো করবে এবং লাইক দিবে। এছাড়াও আপনি বিভিন্ন গ্রুপের কমেন্ট সেকশনে আপনার পেইজ প্রমোশন করতে পারেন। এক্ষেত্রেও আপনি কিছু লাইক পেতে পারেন।

Read More:

ইউটিউব প্রতি ১০০০ ভিউতে কত টাকা দেয়?ইউটিউব থেকে আয় কি হালাল?

কনটেন্ট রাইটিং টিপস | আর্টিকেল লেখার কৌশল-২০২১

ওয়েব ডিজাইন: কিভাবে ওয়েব ডিজাইনার হওয়া যায় সম্পূর্ণ গাইড লাইন

আপনার ফেসবুক পেজে নিয়মিত কাজ করুন:

আপনি একটি পেজ খুলেছেন কিন্তু সেখানে কাজ করেন না! তাহলে ফলোয়ার তো পাবেন ই না বরং যারা আছে তারাও চলে যেতে পারে। সুতরাং আপনি আপনার ফেসবুক পেজে লেখালেখি কিংবা ভিডিও যাই দিন নিয়মিত দিতে হবে। অর্থাৎ নিয়মিত ফেসবুক পেজকে সচল রাখতে হবে।

বিভিন্ন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখা:

অনলাইন জগতে আপনি নতুন নতুন বন্ধু খুঁজে পেতে পারেন। তাদের সাথে অবশ্যই আপনার ভালো ব্যবহার করতে হবে। আপনি তখন আপনার পেইজ সম্পর্কে তাদের বলতে পারবেন। তারা যদি ফলো করে এবং ভালো কিছু আপনার পেইজে পায়, তাহলে তারা তার বন্ধুদেরকেও আপনার পেইজ কে ফলো করতে বলবে। এর মাধ্যমে আপনার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার এবং লাইক সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

আমি ধরে নিচ্ছি আপনার ফেসবুক পেইজ আছে এবং10 হাজার ফলোয়ার হয়ে গেছে। এখন আপনি ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করবেন? আপনার যখন ফেসবুক পেজ পপুলার হয়ে যাবে, তখন আপনি বিভিন্ন কোম্পানির থেকে স্পন্সর পাবেন। যদি আপনি লেখালেখি করেন তাহলে তাদের কোম্পানির কিংবা কোনো প্রোডাক্ট সম্পর্কে কিছু লিখতে পারেন। অথবা যদি আপনারা ভিডিও পাবলিশ করেন তাহলে ভিডিওর মাঝখানে তাদের সম্পর্কে কিছু বলতে পারেন। এছাড়া আপনার ফেসবুক পেইজে বিভিন্ন প্রোডাক্ট কেনা-বেচার মাধ্যমে আয় করতে পারেন। আপনি বিভিন্ন ভিডিও করে বিভিন্ন কোম্পানির প্রমোশন করতে পারেন। এর মাধ্যমে সে কোম্পানি আপনাকে টাকা প্রদান করবে। এটি ফেসবুকে টাকা আয় করার ভালো উপায়।

Facebook Ads Break বা ভিডিও মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়:

আমরা যখন ফেসবুক ইউজ করি তখন বিভিন্ন ভিডিও আমাদের সামনে চলে আসে। ভিডিও গুলো তে আমরা বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম হয়।

ফেসবুকে আয়

Facebook Ads Break কি?

ফেসবুক থেকে টাকা আয়ের একটি পদ্ধতি অর্থাৎ আপনার ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানোর এই পদ্ধতিকে বলা হয় Facebook Ads Break.

এখন আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন আপনি ভিডিও আপলোড দিবেন এবং ফেসবুক থেকে টাকা আয় করবেন। কিন্তু এখানে কিছু শর্ত আছে। ওই শর্তগুলো যদি আপনি পূরণ করতে পারেন, তাহলে ফেসবুক আপনাকে টাকা আয়ের সুবিধা দিবে। তাহলে সেই শর্ত গুলো কি চলুন জেনে নেই:

১. আপনার একটি ফেসবুক ফ্যান পেজ থাকতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে কিভাবে ফেসবুক ফ্যান পেজ থেকে টাকা আয় করা যায় তা বলেছি।

২. শেষ ৬০ দিনের মধ্যে আপনার ফেসবুক পেজের ভিডিওতে 30000 ভিউ থাকতে হবে। প্রত্যেকটি ভিউ কমপক্ষে এক মিনিটের হতে হবে। আপনি যে ভিডিওগুলো আপলোড দিবেন তা কমপক্ষে তিন মিনিট দৈর্ঘ্যের হতে হবে।

৩. কিভাবে শেষ ৬০ দিনে 15 হাজার মানুষ কে আপনার পেজের ভিডিও গুলো দেখতে হবে বা তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে।

৪. ফেসবুক ভিডিও মনিটাইজেশন এর শর্তাবলী আপনাকে মানতে হবে। যেমন আপনার ভিডিওতে কপিরাইট ক্লেইম থাকা যাবে না।

৫. আপনার বয়স অবশ্যই 18 বছরের নিচে হওয়া যাবে না।

এই শর্তাবলী পূরণ করে আপনি আপনার ফেসবুক পেইজ থেকে ভিডিও তৈরি করার মাধ্যমে ফেসবুক থেকে আয় করতে পারেন। বর্তমানে আপনি যে ভিডিও গুলো দেখছেন তাদের বেশির ভাগেই বিজ্ঞাপন দেখায় অর্থাৎ তারা ফেসবুক থেকে আয় করছে।

ফেসবুক গ্রুপ থেকে টাকা আয়:

যদি আপনার ফেসবুকে একটি গ্রুপ থাকে এবং সেই গ্রুপ অনেক মেম্বার থাকে, তাহলে আপনি সহজে গ্রুপে বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর ছবি তুলে তা বিক্রির পোস্ট করতে পারেন। যেহেতু আপনার গ্রুপে অনেক মেম্বার তাই কারো না কারো আপনার প্রোডাক্ট ভাল লাগতে পারে। এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারেন। এছাড়া আপনি অন্যদেরও তাদের প্রোডাক্ট বিক্রি করার সুযোগ দিতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনার কিছু কমিশন থাকতে পারে। এভাবে আপনি গ্রুপের মাধ্যমে ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম করতে পারেন। এছাড়া বর্তমান ফেসবুক গ্রুপ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম।

যদি আপনার গ্রুপে বা পেজে 10 হাজারের উপর লাইক সংখ্যা থাকে, তাহলে বিভিন্ন কোম্পানি আপনার গ্রুপে তাদের প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। এজন্য সে কোম্পানিগুলো আপনাকে প্রফিট দিবে।

সম্পূর্ণ কাজটি আপনি মোবাইলে করতে পারবেন। অর্থাৎ অনলাইন জব মোবাইল ইনকাম এবং ছাত্রদের জন্য অনলাইনে ইনকাম এর জন্য উপযোগী।

ফেসবুক ট্রাফিকের মাধ্যমে আয়:

যদি আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকে, তাহলে আপনি ফেসবুক এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের প্রচুর ভিজিটর পাবেন। যেমন, বিভিন্ন গ্রুপে অথবা পেজে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে আর্টিকেল শেয়ার করতে পারেন। এর মাধ্যমে তারা আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করবে। বেশিরভাগ ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটের অন্যান্য পোস্ট ও দেখবে। যদি তাদের মনে হয় আপনার ওয়েবসাইট তথ্যবহুল, তাহলে প্রতিনিয়ত তারা আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করবে। অর্থাৎ ফেইসবুক এর মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের পার্মানেন্ট ভিজিটর পেতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের ইনকাম যথেষ্ট বাড়বে।

Facebook Instant Article এর মাধ্যমে ফেসবুক থেকে আয়:

ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল

Facebook Instant Article হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগ সাইট এর বিভিন্ন পোস্ট দ্রুত সময় লোড নেওয়ার একটি পদ্ধতি। এছাড়া যদি আপনার পোস্টে ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল যুক্ত করা যায়, তাহলে আপনি এর মাধ্যমে ফেসবুক থেকে আয় করতে পারবেন। যদি আপনার পোস্টে ফেসবুকে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল যুক্ত করা যায়, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের সেই পোস্ট এর মধ্যে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন শো করবে। এর মাধ্যমে আপনার আয় হবে। ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল যুক্ত করতে হলে আপনার একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইট প্রয়োজন হবে। আপনার ওয়েবসাইটে আপনি বিভিন্ন পোস্ট পাবলিশ করবেন। তবে অবশ্যই কমপক্ষে ২০টি পোস্ট থাকতে হবে। এরপর সেই পোস্টগুলো ফেসবুক পেজে শেয়ার দিবেন। এখন ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল আপনার ওয়েবসাইটে যুক্ত করতে হলে ফেসবুকের কাছে আবেদন করবেন। এরপর ফেসবুক আপনার ওয়েবসাইট রিভিউ করবে। সব কিছু ঠিক থাকলে, ফেসবুক আপনার ওয়েবসাইটে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল যুক্ত করে দিবে এবং আপনার পোস্ট এর মাঝে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন শো হবে।

কিভাবে ঘরে বসে মোবাইলে আয় করবো? অনলাইন ইনকাম মোবাইল দিয়ে ২০২১

অনলাইন জব করার সেরা ১৫ টি উপায় জেনে নিন-অনলাইন ইনকাম

কিন্তু যদি আপনার ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগ সাইট এডসেন্স এর আওতায় থাকে, তাহলে আপনি ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল এর সুবিধা পাবেন না। এছাড়া ওয়েব ভার্সনে ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল সুবিধা পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র মোবাইল অ্যাপে পাবেন।

আফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে ফেসবুক থেকে আয়:

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে অনলাইন ইনকাম এর সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হচ্ছে আফিলিয়েট মার্কেটিং। আফিলিয়েট মার্কেটিং দ্বারা আপনি কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন। আমাদের দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আফিলিয়েট মার্কেটিং আয় হচ্ছে। তাহলে চলুন প্রথমে জেনে নেই,

ফেসবুক ইনকাম

আফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কোন একটি কোম্পানির প্রোডাক্ট আপনি বিক্রি করার মাধ্যমে সেই কোম্পানি থেকে প্রফিট লাভ করা।

তাহলে এবার ভাবুন আপনার বড় একটি ফেসবুক পেজ রয়েছে কিংবা ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে। তাহলে আপনি বড় বড় কোম্পানির প্রডাক্ট আপনার গ্রুপ কিংবা পেজের মাধ্যমে যদি বিক্রি করতে পারেন, তাহলে আপনার প্রফিট হবে। এর মাধ্যমে আপনার ফেসবুক থেকে আয় হবে।

এবার অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, আমার তো বড় ধরনের ফেসবুক পেজ কিংবা গ্রুপ নেই! আমি কি করবো? এতেও সমস্যা নেই আপনি বিভিন্ন গ্রুপ এবং পেজে ওই কোম্পানির প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিউ দিতে পারেন এবং লিংক দিয়ে দিতে পারেন। ওই লিংকে ক্লিক করে যদি কেউ সেই প্রোডাক্ট ক্রয় করে, তাহলে আপনি প্রফিট পেয়ে যাবেন।

Amazon, eBay, Daraz, BD Shop ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রোডাক্ট এফিলিয়েট এর মাধ্যমে বিক্রি করার সুযোগ দেয়। প্রথমে আপনি এইসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে নিবেন। এরপরে আপনার পছন্দের প্রোডাক্টগুলো রেফারেল লিংক তৈরি করে সেই লিংকগুলো বিভিন্ন সোশ্যাল মাধ্যমে শেয়ার করবেন।

ফেসবুকে টাকা আয় করার উপায় হিসেবে আফিলিয়েট মার্কেটিং বেস্ট একটা উপায়।

বিভিন্ন প্রোডাক্ট কেনা বেচার মাধ্যমে ফেসবুক থেকে আয়:

ফেসবুকে খুব সহজেই পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। কারণ পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ সোশ্যাল মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে। তারা ফেসবুককে ফেস বডি হিসেবে নিয়ে থাকে। তাই ফেসবুকে যদি আপনার কোন পপুলার গ্রুপ কিংবা পেজ থাকে, সেখানে অনেক মেম্বার রয়েছে তাহলে আপনি সেখানে আপনার পণ্য ক্রয় বা পণ্য বিক্রয় করতে পারেন।

এছাড়া আপনি অন্যদেরকেও আপনার গ্রুপ কিংবা পেজে পণ্য ক্রয় বিক্রয়ের সুযোগ দিতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি একটি প্রফিট নিতে পারেন। বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্ট বিক্রি করার মাধ্যমে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হিসেবে ফেসবুক থেকে টাকা আয় করতে পারেন।

এত কোন উপায় বলার পরেও আপনার মনে কি এই প্রশ্ন এখনো আছে, ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়? যদি থাকে সমস্যা নেই। আমরা ফেসবুক থেকে টাকা আয় করার উপায় হিসেবে, আরো কিছু উপায় বলব।

আরও পড়ুন: কিভাবে ঘরে বসে মোবাইলে আয় করবো? অনলাইন ইনকাম মোবাইল দিয়ে ২০২১

বিজ্ঞাপন দিয়ে ফেসবুকে টাকা আয়:

ধরে নিলাম আপনি একটি কোম্পানি রয়েছে অথবা ই-কমার্স সাইট রয়েছে। কিন্তু আপনি ভিজিটর পাচ্ছেন না। সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে আপনি বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। সেই বিজ্ঞাপন একটি নির্দিষ্ট পরিমান ভিজিটর না আসা পর্যন্ত চলতে থাকে। তারা আপনার সাইট কিংবা কোম্পানি সম্পর্কে জানতে পারবে। আপনার সার্ভিস ভাল হলে তারা আপনার নিয়মিত কাস্টমার হয়ে যেতে পারে। এর মাধ্যমে আপনার প্রচুর পরিমাণে সেল হবে। ফলে টাকা ইনকাম হবে।

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ফেসবুক থেকে আয়:

আশা করি আপনারা সকলেই জানেন ফ্রিল্যান্সিং কি? যদি একটু বলে দেই তাহলে, ফ্রিল্যান্সিং হলো অনলাইনের মাধ্যমে অন্য কারো কাজ আপনি করে দেওয়ার মাধ্যমে টাকা ইনকাম। আপনি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে ফেসবুক ম্যানেজার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের কোম্পানির ফেসবুকে পেজ ও গ্রুপ থাকে। সেই গ্রুপগুলো এবং পেজগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজন হয় দক্ষ ফেসবুক ম্যানেজারের। এই কাজটি আপনি করতে পারেন। এই কাজের জন্য প্রচুর পরিমাণে মার্কেটপ্লেসে অফার রয়েছে। যেমন ফাইবার, আপওয়ার্ক ইত্যাদিতে। এছাড়া ফেসবুকেই আপনি বিভিন্ন গ্রুপে জয়েন হয়ে ফেসবুক সংক্রান্ত কাজ পেতে পারেন। সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি ফেসবুকেই, ফেসবুকে আয় করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। আপনার প্রয়োজন দক্ষতা অর্জন করা।

আশা করি ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় এই প্রশ্নের উত্তর আপনারা অনেকটাই পেয়ে গেছেন। তবে আমরা ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় এই সম্পর্কে আরো আলোচনা করবো।

ফেসবুক পেজ বিক্রি করে ফেসবুক থেকে আয়:

ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়

আপনার ফেসবুক পেজ থাকতে পারে কিন্তু হতে পারে আপনি বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে ফেসবুক পেজ মেইনটেইন করতে পারছেন না। এক্ষেত্রে আপনি ফেসবুক পেজটি বিক্রি করে দিতে পারেন। যদি আপনার ফেসবুক পেজে অনেক বেশি ফলোয়ার থাকে তাহলে আপনি বেশি দামে ফেসবুক পেজটি বিক্রি বিক্রি করতে পারবেন। অর্থাৎ যত বেশি ফলোয়ার থাকবে তত বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। সুতরাং এভাবেও আপনি ফেসবুক থেকে টাকা আয় করতে পারেন।

ছাত্রদের জন্য অনলাইনে আয় এবং মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার জন্য সবচেয়ে ভালো একটি মাধ্যমে ফেসবুক। কারণ মোবাইলের মাধ্যমে আমরা সবচেয়ে বেশি ফেসবুক ব্যবহার করে থাকি। তাই অনলাইন ইনকাম মোবাইল এখন সহজ, ফেসবুকের মাধ্যমে।

লাইক বিক্রি করার মাধ্যমে ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়:

যদি আপনার বড় একটি ফেসবুক পেজ থাকে, তাহলে আপনি অন্যান্য বিভিন্ন পেজ, যারা নতুন পেইজ ক্রিয়েট করেছে, তাদেরকে সুযোগ দিতে পারেন আপনার পেজে লেখালেখি করতে। এর মাধ্যমে তারা তাদের পেজে ভিজিটর সংখ্যা অর্থাৎ লাইক সংখ্যা বাড়াতে পারবে। এর মাধ্যমে আপনি তাদের কাছ থেকে প্রফিট নিতে পারেন। সুতরাং লাইক বিক্রির মাধ্যমে ফেসবুক থেকে আয় করা সম্ভব। আর এই বিষয়টি মোবাইলের মাধ্যমে অর্থাৎ অনলাইন জব মোবাইল ইনকাম করা সম্ভব।

অনলাইন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ফেসবুকে আয়:

আপনি বিভিন্ন অনলাইন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারেন। যদি আপনার বড় গ্রুপ অথবা পেজ থাকে তাহলে আপনি সেখানে প্রতিযোগিতার পোস্ট দিতে পারেন। এর মাধ্যমে অনেকেই আপনার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য কিছু প্রফিট আপনি নিতে পারেন। এভাবেও আপনি ফেসবুক থেকে আয় করতে পারেন।

ফেসবুকে টিউশন খোঁজা:

ফেসবুক বর্তমানে জনপ্রিয় একটি সামাজিক মাধ্যম। প্রায় সব কিছু আপনি ফেসবুকে পাবেন। এর ধারাবাহিকতায় ফেসবুকে টিউশন ভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে। সেখানে প্রতিনিয়ত টিউশন এর অফার এসে থাকে। আপনি যদি টিউশনি করাতে পারেন, তাহলে আপনি সেইসব গ্রুপে জয়েন হয়ে আপনার দক্ষতা অনুযায়ী টিউশন পেতে পারেন। অর্থাৎ ফেসবুকের মাধ্যমে টিউশন করিয়ে আপনি ফেসবুক থেকে আয় করতে পারেন। আমার পরিচিত অনেকেই ফেসবুক থেকে টিউশনি পেয়েছে।

বিভিন্ন কোর্স চালু করে ফেসবুক থেকে টাকা আয়:

ফেসবুকে যখন আপনার একটি পেজ কিংবা গ্রুপ অনেক পপুলার হয়ে যায়, তখন আপনার অনেক ফলোয়ার থাকে। যারা আপনাকে বিশ্বাস করে। যদি আপনি তাদের ভালো কিছু দিতে পারেন তাহলে তারা তা গ্রহণ করবে। এখন আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং কিংবা ওয়েব অথবা অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদিতে খুব পারদর্শী। অথবা আপনি ভালো একজন শিক্ষক। তাহলে আপনি এই সব বিষয়ের উপরে বিভিন্ন কোর্স চালু করতে পারেন। যেহেতু আপনাকে তারা বিশ্বাস করে, তাই আপনার কোর্স এ তারা ভর্তি হবে। এছাড়া অন্যদেরও আপনার কথা বলবে। এভাবে আপনি কোর্স চালু করে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা ফেসবুক থেকে আয় করতে পারেন।

আরও পড়ুন: অনলাইন জব করার সেরা ১৫ টি উপায় জেনে নিন-অনলাইন ইনকাম

ফেসবুকে আয় করতে আপনাদের কিছু কমন প্রশ্ন ও উত্তর:

ইউটিউব এর ভিডিও কি ফেসবুকে আপলোড দেওয়া যাবে কিনা?

এর উত্তর হচ্ছে না, আবার হ্যাঁ। বিষয়টি আপনাদের পরিষ্কার করি। ফেসবুক এখন পর্যন্ত ইউটিউব এর ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করতে দিচ্ছে। কিন্তু সেই ভিডিও, এর আগে ফেসবুকে আপলোড থাকা যাবে না। অর্থাৎ ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড হয়ে গেছে আপনি ওই ভিডিও যদি আবার আপলোড দেন তাহলে কপিরাইট হবে। অন্য ভাবে যদি আপনি কারও ভিডিও ফেসবুকে আপলোড দেন এবং ভিডিও এর মালিক যদি আপনাকে কপিরাইট দেয়, তাহলেও আপনি কপিরাইট এর আওতাভুক্ত হবেন।

আমি কি মোবাইল এর মাধ্যমে ফেসবুক থেকে আয় করতে পারবো?

উত্তর হচ্ছে আপনি ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি কোন ডিভাইস দিয়ে ঢুকেন? অবশ্যই মোবাইল। অর্থাৎ মোবাইল দিয়েও আপনি ফেসবুকে আয় করতে পারবেন।

আমি কিভাবে বুঝবো আমার ফেসবুক পেজ আপনার পেজ এডস ব্রেক এর জন্য উপযুক্ত?

আপনি ফেসবুক এড সেন্টারে যাওয়ার পর এপ্লাই করলে, ফেসবুক আপনার পেজ রিভিউ করবে। যদি আপনি এড ব্রেকের উপযুক্ত হন তাহলে তারা আপনার ভিডিওগুলো রিভিউ করবে। যদি না হয় তাহলে আপনাকে বলে দিবে আপনার কি কি করতে হবে।

ফেসবুক এডস ব্রেক এর মাধ্যমে ফেসবুকে কি পরিমাণ টাকা ইনকাম সম্ভব?

ফেসবুক বিজ্ঞাপন এর জন্য যে টাকা আয় করবে তার 55% আপনাকে দিবে। সুতরাং পরিমাণটা যথেষ্ট। ফেসবুক থেকে আপনি যথেষ্ট পরিমাণ টাকা আয় করতে পারেন।

আমাদের শেষ কথা,

আমরা মোটামুটি ভাবে যত সম্ভব আপনাদের ফেসবুক থেকে আয় করার পদ্ধতি বলেছি। আমরা অনেকেই ফেসবুকে অনেক সময় ব্যয় করি। এজন্য আমি চেষ্টা করেছি আপনাদের এই সময়টা যেন অপচয় না হয়। যেন আপনাদের এই সময়টা আপনারা একটু কাজে লাগিয়ে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারেন। তবে প্রথমেই আমি বলবো, আপনারা আপনাদের লেখাপড়া সহ অন্যান্য বিষয় ঠিক রাখবেন এবং দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করবেন। ফেসবুকে আয় সংক্রান্ত যেকোন তথ্য বা মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আমাদের ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় লেখা পড়ার পরেও যদি আপনার আর কোন প্রশ্ন থেকে থাকে, তাহলে আমাদের কমেন্টে জানান। আমি আপনাদের কমেন্টের রিপ্লাই দিব।

আশাকরি, ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আপনাদের জানাতে পেরেছি। Learning View Bd এর সাথেই থাকুন।